শ্রী চন্দন গঙ্গোপাধ্যায়-র তিনটি ছড়া

ভোটের দামামা বাজছে


দুম্ দুম্ দুম্ , বুম্ বুম্ বুম্
শোন ঐ, ভোটের দামামা বাজছে ,
গনতন্ত্র সাজছে।

একুশ শতক চোখে জল নিয়ে দেখে ,
স্বাধীন দেশেও রক্ত ঝরছে।

দুম্ দুম্ দুম্ , বুম্ বুম্ বুম্
শোন ঐ, ভোটের দামামা বাজছে।

রাস্তার ধারে জীবন্ত প্রান, পড়ে পড়ে কাতরাচ্ছে ,
মানুষে মানুষে লড়ছে।

দুম্ দুম্ দুম্ , বুম্ বুম্ বুম্
শোন ঐ, ভোটের দামামা বাজছে ,
গনতন্ত্র বাঁচছে।

শান্তি শান্তি গভীর শান্তি, শান্তি-বাহিনী ছুটছে ,
ভারী ভারী বুটের গভীর নিনাদ, আকাশে ধ্বনিত হচ্ছে।

দুম্ দুম্ দুম্ , বুম্ বুম্ বুম্
শোন ঐ, ভোটের দামামা বাজছে
গনতন্ত্র বাঁচছে ।।
 

টুইঙ্কেল


টুইঙ্কেল ডিংগাল
টুক টুকে গাল।
ফুটফুটে কন্যার
ঠোঁট দু-টি লাল।

টুইঙ্কেল ডিংগাল
বড় চঞ্চল।
কুঞ্চিত কেশরাশি
এতটুকু ভাল।

টুইঙ্কেল ডিংগাল
চলে, দুলকি চাল।
কত কত ,কথা কয়,
গান গায় ,হাত নাড়ে,নৃত্যের তাল ।

টুইঙ্কল ডিংগাল
যেন ইন্দ্রজাল।
সকলে ভালবাসে ,ছুঁতে চায়
বড়-ই কামাল।

টুইঙ্কেল ডিংগাল
বাড়ি যাবে কাল।
ধরে দিতে হবে তাকে
দুটো, সাদা বিড়াল।

মূল্যহীন প্রাণ


ঝুপ করে কোপ পড়ল ঘাড়ে,
মুন্ডু-খানি ছিটকে পড়ে,
খচা-খচ ভিড়ে,ঘচা-ঘচ কাটে মাথা।
ললুপ-দৃষ্টি ভিড় করে থাকে,
চামড়ার নীচে,নরম মাংসের দিকে,
খস্-খস্ গোনে টাকা।

খচা-খচ ভিড়ে,ঘচা-ঘচ কাটে মাথা,
হায়-রে , কে শোনে কাহার ব্যথা,
সমাজ দিয়েছে,পেট ভরানোর ঠিকা।
ভাই, এবার আমার পালা,
এসো তুমি পিছে,দুনিয়া-টা মিছে,
ভাগ্য লক্ষীছাড়া।

শেষ বারের মত মুখ-টা খুলে,
স্থির তাকিয়ে থাকা,
ফিনকি দিয়ে ছুটছে রক্ত,ছটফট করে মরা।
খাদ্য-খাদক, নাই পাপ-বোধ,
কত-না যুক্তি, হাজার তত্ত্ব খাড়া,
এ নিয়ম মানুষের-ই গড়া।

ঐ কান পেতে শোন, মনের কথা,
মন চায় না,নির্মম রক্ত-প্লাবন,দুঃখ-ব্যথা,
ঐ কান, চায় না শুনতে,আর্ত-ক্রন্দন যন্ত্রনা,
ঐ চোখ, চাহে না দেখিতে,ঐ হাত,রক্ত মাখা।
যদি পারতাম যেতে ,সেই সবুজের দেশে, যেথা শান্তি রাজা, রানী ভালবাসা ,
স্নিগ্ধ সমীর,পর্ণ-কুঠির,নির্মল জল,গাছে পাকা ফল, সকল-ই পবিত্রতা মাখা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ