প্রসাদ সিং এর তিনটি কবিতা

ছাতা


অনেকদিন বৃষ্টিতে স্বেচ্ছায় ভিজিনা 
এর পরের বার ছাতা টা ফেলে দেব একপাশে 
কিংবা উতলা হাওয়া তাকে নিয়ে যাক দিগন্তে 

মানুষ ঝরে পড়ুক আকাশ থেকে মানুষ 
চক্রগ্যুহের কাহিনি শুনে সুদোকু নিয়ে বসা যাক 
বৃষ্টির তলায় এসো আমরা কেঁদে উঠি 

মানুষের কান্নাজল সমুদ্রতলে গিলবে ভূপৃষ্ঠতল
ততদিন অ্যাকোয়ারিয়াম সাজিয়ে রাখো 
মাছের জীবনের মতো মানুষের অভিযোজন 

এসো আমরা গাছেরদের নীচে গিয়ে দাঁড়াই 
আমাদের বৃষ্টি কেউ কোনোদিন আটকে দেয় না 
গুটি গুটি পায়ে আমরা ছাতার তলায় ঢুকে যাই 
                               

বেকারত্ব

                            
টিভির রাজনৈতিক বিঞ্জাপন খেয়ে 
টিউশন পড়াতে যাচ্ছি আমি 
রাষ্ট্রের গুলিতে মারা যায় শুধু পরিযায়ী শ্রমিক 

টাকার কাকতাড়ুয়া বানানো হোক 
মনুর বেদবাক্য আউড়ে জীবন্ত হয়ে উঠবে 
কাজ করবে সে বুর্জোয়াদের জন্য 

চতুরাশ্রমকে ব্রাহ্মন ছাড়া আর কেউ ফেরাবে না 
মন্দিরগুলো যেখানে ছিলো সেখানেই আছে 
শুধু ঈশ্বর দূরে সরে যাচ্ছেন 

ঈশ্বরের নামে মানুষের প্রাণ নেওয়া যায় 
অ্যাসিডের আক্রমণ করা যায় প্রেমের নামে 
শুধু ঈশ্বরের বা প্রেমের কোনো বিকার নেই 

শুধু একটাই কথা বলতে চাই 
সবার ওপর বেকারত্ব 
তাহার প্রতি করুণা ছাড়া কিছু নেই 
                                

নব নির্মিত পাকা রাস্তা

                            
ভোট আসতেই গ্রামে একটা পাকা রাস্তা হলো 
রাস্তাটা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিলো 
রাস্তা করতে আসলো কিছু শ্রমিক 
রাস্তার কাজ শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়লো রাস্তায় 
না তাদের লজ্জা লাগেনা রাস্তায় ঘুমোতে 
রাস্তাই তাদের সাময়িক বিছানা 
জীবনটা গোলপের বিছানা নয় 
এ দর্শন তাদের জন্য না 

ঘামে ভেজা ঐ গামছাটা তাদের বালিশ 
ঘামের গন্ধ সাক্ষী দেয় পরিশ্রমের 
ঝরে যাওয়া ঘামে শীতল হয় রাস্তা নামক বিছানা 
রাস্তার ধারে গাছগুলো ছাদ হয়ে ওঠে 
এ হচ্ছে সেই আদিম ছাদ 
গুহাদের পাশে যাদের দেখা যেত 
এই খর দাবদাহে কংক্রিটের দেওয়াল এগিয়ো না 
পারলে কয়েকটা গাছ এগিয়ে দাও 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ