খয়েরী রঙের সমীক্ষা - লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল


এক

ছাই উড়ছে শরীরের বলিরেখা ঘিরে , আর কিছুদিন পরেই আড়চোখের দৃষ্টিতে বসবে কলঙ্কের ছাপ, মগ্নতা থেকে সুশীল পুরুষের দিক পরিবর্তনের ছবিটা কেটে যারা ঘুড়ি ওড়াবে তারাও ক্লান্তি ঘোঁচাতে হাত উঁচিয়ে হাই তুলছে চৌরাস্তায় – মুক্তবেণির মেয়েটি পান'এ আদা মেশাতে মেশাতে বাতাসের তাপ মাপছে – পাশেই ট্যাপ খুলে পড়ছে জল , তাদের কোনো বিকার নেই , নরেন্দ্রও কেমন বরফ খুঁজছেন – এটা তার ভান হতে পারে , তবে কোন নৌকাবিহার নাই ! মফসসলের শরীর পুড়ছে , আর কালো কালো ঘুর্ণির ঘুর্ণনে ঘুরছে জামা
প্যান্ট শাড়ি ব্লাউজ , রাগছেন বাগ্মী মমতা ; বৈরাগ্য কোথায় কে জানে

সাহিত্য ডট ইন

দুই

বিকেলের চালায় গাল ঠেকিয়ে থাকার দৃশ্যতে হার মানে পশ্চিমের রং, মশগুল তার ক্লান্তিতে দুদলের কাঁটাতার যারা দিন ফিরিয়ে দেবার জন্য মিছিল করে তার সাথে বিরোধী দলের কোন পার্থক্য নেই - সকলের ইস্তাহারে ঘুমন্ত রাত্রি অবোধ্য, তবু হাওয়ায় ফোলা খয়েরী ঠোঁট জামফলের মতো রসাল , যেন ছায়া কেঁপে ওঠা এই ভূগোল , আর সঙ্গমে উন্মুখ লাঠি সোটা বন্দুক – ঠিক ঠিক রাঙাদ্বীপের কাহিনী , এই বুঝি ফিরে ফিরে আসে চাপ চাপ রক্ত – জঙ্ঘা বেয়ে মিশে যায় দক্ষিণের মেঘদলে



তিন

আরও আটকে রেখো সহজ কোমর পেঁচিয়ে রাখা শাড়ি , অথবা জটিল হও পালাগানের সহচরী – এই জংলিপনাতে কিছু সময় তো দাও – যেখানে দৌড়ে দৌড়ে হৃদয়টা বেড়ে যেতে পারে জঙ্গলের পরিধি মতো – এই জৈষ্ঠ্যে দম বাড়াতে পারলেই সাপুড়েরা বুঝে নেবে মিথ্যে রানীর গন্ধ , যতই উড়ুক্কু সাপ হোক এক্সিট পোলের সংখ্যা গুলো পেরোতে পেরোতে ছায়াপথের দিকে তাকায়


চার

কারও কোন খুঁত নেই এমন ঠাট্টা না করাই ভালো – তুবড়ানো গালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কলপগুলো জ্বলজ্বল করছে ত্রিফলা বাতিতে – চাপা দিতে চাইলেও দগদগে সাদা দাড়ি ভেসে ওঠে রোড শো'র আলোয় – কারা যে হাত নাড়ে নিজের খুলির ভিতর?
অবিরাম জলপড়ার শব্দে নাচে নন্দলালা – মাখন চুরির অভিজ্ঞতায় নাড়তে থাকে হাতের নাড়ু , টোপ খাওয়া রোদে উপচে পড়ে গ্লাসের টলটলে মদ –
তখনই মুখোসের দিকে তাকাও – অস্বীকারের ঢেউয়ে যে মদের দোকান গুলো ভেসে আসে , ঠিক তেমনই কোন একদিন ওদের আলাপ – সেগুলোই এলেমেলো করে দেয় নিজস্ব আমবন ; কপালের কাটা দাগে ফুটে ওঠে বিপন্নতা


পাঁচ

মনিকে একটা হাতলহীন ছুরি মনে হয়
কোমরে শাড়ি না জড়িয়েও সাপের মত হেঁটে বেড়ায় রাস্তার ফ্যাসানে – চামড়ায় ট্যাটু করার ইচ্ছে আছে একশ ভাগ, সে-কারণেই ভোটের দিন গুলিতে সে অমোচনীয় কালিতে মিশিয়ে দেয় পুরুষের জিব , তাই নখের আঁচড় ফুটে উঠেছে শিৎকার লিপিতে রোদের কাছে কোনো লজ্জা নেই –করতে নেই ,
যত ঘোমটা থাক না কেন মিছিল আর খাওয়া দাওয়াতে আঙুল গুলো সমুদ্র কাঁকড়া - সমুদ্রে যায় আর গর্তে ঢুকে পড়ে – এঁকেবেঁকে ফাঁকা নাভিশ্বাস ধরতে চাওয়া না চাওয়ার কাছে , তাতে লেগে থাকে নত মুখের মৃদু হাসি


অব্যক্ত আড়াল গেলেই হাতের কাঁদালে দাঙ্গা লাগে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ