নতুন করে - সুমন পাটারী


একা একা কি বিরক্তিকর দিন কাটাচ্ছিলাম আমি,
মোরগের হুঁইসেলে জেগে উঠতাম মগজভর্তি জট নিয়ে
আর দেওয়াল থেকে দেওয়ালে ঘুরে বেড়াতাম,
বিজ্ঞাপন দেওয়ার মতো তেমন কিছুই ছিলো না আমার,
এবং বৃষ্টিপাত ছিলো দরিদ্রসীমার নিচে
তাই কোনো বৃক্ষ নয়, বাদামি তৃণভূমি গড়ে উঠেছিলো,
আমার প্রিয় কি ছিলো তা আমি কখনোই নির্দিষ্ট করতে পারিনি,
তবে আমার ছিলো কল্পনা, যদিও ডালপালা না থাকলে নীড় গড়ে না কেউ
যেহেতু আমার ছিলো যৌবন, লুকিয়ে লুকিয়ে আমিও দেখতাম
বিবস্ত্র পিঠ নিয়ে কেউ দাড়িয়ে আছে
এবং শুধু একটু ঘুরিয়ে দেখার,
আমি আসলে ছিলাম পঙ্গু,
যতদূর দৌড়ানো যায়, অসময়ে দৌড়ে
ভেঙে ফেলেছিলাম তা-ও
আমার পিতামহ যখন থেকে পা হারিয়েছেন
কাঁটাতার পেরোবার সময়, কিন্তু দাঁড়া থেকে গেছে
অসম্ভব ঋজু, রোজ মধ্যরাতে বিশাল গোঁফ
উঁচিয়ে আসতেন, ডাকতেন, আমি করজোড়ে অক্ষমতা দেখালেও, ডেকে তুলতেন, ধমক দিতেন
"চুপকর, কুলাঙ্গার, তুমি আমার বংশের বীজ,
উঠে দাঁড়াও
নিজেকে ফাঁকি দিয়ে শহরে চলে যাও"
এভাবেই একদিন দেখা পেয়েছিলাম,
যেন দাম্পত্যের শেষ সময়ে প্রথম সন্তান এসেছিলো ঘরে,
কত বছরের বরফগলা জল, কি বলব!
কতদিন যে জমিয়ে রেখেছিলাম,
কিন্তু আমি বাস করে আসছিলাম অসুস্থ ঘরে
অন্ধকারে অবাধে বেড়ে গিয়েছিলো
নখ, দাঁত এবং নিঃসঙ্গতার বাতিক,
তোমাকে ছিঁড়ে খেয়েছি,
আর শেষে নিজেকে নতুন করে খাচ্ছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ