তবুও - মঞ্জরী হীরামণি রায়


জানালার ফ্রেমে দুনিয়া । গাঁঠে গাঁঠে বিষ ব্যাথার জ্বালা ভুলে থাকতে ওখানেই কল্পনার বসতি গড়েছে সুনন্দা । শহরের এক প্রান্তে জানালা । কোলাহল অনেকটাই কম । ফ্রেমে ধরা আছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, সুপোরি, কদম, অপরাজিতা, অমলতাস, নারকেল, কুল, রঙ্গন... আঁকা বাঁকা বড় রাস্তা, সাবলেন, ফ্ল্যাট বাড়ি, পড়শির ব্যালকনি...
সূর্য ভালো করে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই জানালাটা ব্যস্ত হয়ে ওঠে । মর্নিংওয়াক, স্কুল গাড়ি, অফিস যাত্রী, অটো, রিক্সা, টুহুইলার... ।
একসময় জানালাটা নীরবচারী হয় ।
সুনন্দা রোজ আপন মনে বুনে অনেক অনেক গল্পের ভ্রূন । গাঁঠে গাঁঠে বিষ ছড়ানো - প্রসব করা মুশকিল । গর্ভেই লালিত হয়ে চলে ওরা । জঠরের ওম সুরক্ষিত রাখে ওদের ।
অনিমেষ খুব ব্যস্ত । মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর কর্মচারীর অবসর যাপন বিলাসিতা বে কী! সুনন্দার চব্বিশ ঘন্টার সাথী বলতে দুজন নার্স ।
কাহাতক গর্ভ যন্ত্রণা সহা যায় !
সুনন্দা আজকাল অনর্গল কথা বলে গাছেদের সাথে, পাল্টে যাওয়া আকাশের রঙের সাথে, কৃষ্ণচূড়ার ডালে বসা পাখিদের সাথে । সবাই দারুণ রেসপন্স করে সুনন্দাকে । সুনন্দার ভ্রূণরা আলোর ছোঁয়া পায় । শুধু কথা বলা হয়না বৃষ্টির সাথে । দু/এক ফোঁটা ঝরল কী না, সুনন্দার পায়ে ছাট্ লাগল কী না, জানালার কপাট রুদ্ধ হয়ে যায় ।
গাঁঠে গাঁঠে বিষ নিয়ে সুনন্দা স্বপ্ন দেখে একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে, গায়ে জল মাখবে ভ্রূণেরা ।
স্বপ্ন নিয়ে অসম্ভব প্রত্যয়ী সুনন্দা ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ