ফিরে দেখা ২০১৮ || অভিজিৎ দাস


বছর ফুরিয়ে এল । আর তিনটে দিন মাত্র । তারপরে হিসেবে ঢুকে যাবে নূতন একটা সংখ্যা । বছরের দিকে ফিরে তাকালে চোখে পড়ে বছরটা কি পরিমাণ অকাজে কেটেছে, অতচ প্রকৃতির সুমহান সুত্র শূন্যেই সৃষ্টি, সৃষ্টিতেই শূন্য । কিছুই হয়নি, কেবল জন্ম হয়েছে । দেহকে যেমন করে মাতৃগর্ভে থেকে সৃষ্টি হতে হয়, মনেরও প্রয়োজন পড়ে মাতৃগর্ভে দিন যাপনের । সকলে সেই সত্য ধরতে পারেনা, আমি পেরেছি । পেরেছি বলেই মনে করছি যে আমার নতুন জন্ম হয়েছে । নতুন জন্ম নিয়ে যথেষ্ট ভাল লাগছে, আবার লাগছেওনা । উভয়ই সত্য । তবে এটুকু জেনেছি যে, সমস্ত মানবিক সৃষ্টির মূলে মনের আপনার সৃষ্টি । ২০১৮ সেজন্যে স্মরণীয় থাকবে আমার জীবনের কাছে । গর্ভাবস্থা ঠিক কেমন ছিল সেটাই বলবো আজ ।

একসময় অত্যন্ত দুঃখি হয়ে পড়ি । যারপর নাই দুঃখ । পৃথিবীতে সবচেয়ে পবিত্র জিনিস কী ? আত্মঘাতী মানুষ । সেই পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম । এইভাবে পার্থিব সমস্ত নোংরা সাফ হয়ে যায়, আমি হয়ে উঠি পবিত্রতম মানুষ । পবিত্রতম দেহ, পবিত্রতম মন । তারপর শুরু হয় দুঃখ উপশমের প্রক্রিয়া । ওষুধ সেবন থেকে শুরু করে বহুরকমের কথা শুনতে থাকি, যা কিছু সভ্যতা আয়ত্ত করেছে এতদিনে । সত্যি বললে কাজে আসেনি । প্রথমে ভেবেছিলাম দুঃখের কোনো কারণ নেই, অকারনে আমি কষ্ট পাচ্ছি মনে মনে । তারপর যখন কারণ খুজতে শুরু করি, তখন কারণ হয়ে ধরা দেয় একরকমের নিঃসঙ্গতা । প্রথমে অবাক হয়েছিলাম, তারপর ধীরে ধীরে মেনে নিতে পেরেছি, প্রত্যেকটা মানুষই ভেতরে ভেতরে ভীষণ একা । একটা মানুষের একাকীত্ব কেউ দূর করতে পারেনা, বরং যাকে আমরা সঙ্গ ভাবি তা আসলে মনকে ক্ষণেকের জন্য ডাইভার্ট করে ফেলা, এই ক্ষণেক আজীবন হতে পারে কিনা তা আপাতত জানা নেই ।

সবরকমের চেষ্টা করার পর জেনেছি দুঃখ বলে কিচ্ছু নেই, দুঃখ বলে যাকে ভয় করছি তা আসলে শান্তি । হ্যাঁ, শান্তি । যে শান্তির ভাবনাকে সমস্ত জড় সম্প্রদায় ভর করে বেঁচে থাকে । জীবন যেহেতু মিথ্যা, তাই জীবনেরও উচিত শান্তির সন্ধান করা, আর শান্তি দূর মহাকাশ থেকে নিয়ে আসতে হয়না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেডিটেশন করতে হয়না । শান্তি আমাদের সবার মাঝে সর্বক্ষন বিরাজ করে, আমরা কখনো তাকে দুঃখ বলি, কখনোবা সুখ । অথচ শান্তিকে শান্তি বলে মেনে নিতে পারিনা ।

এভাবে আমি নূতন জন্ম নিলাম, ক্ষুধা-তৃষ্ণাকে জয় করা যে এত সহজ হবে তা আগে জানিনি । ২০১৮ স্মরণীয় হয়েই থাকবে ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ