কবিতার কথাঃ সুব্রত ঘোষের ‘গতানুগতিক’ - অভিজিৎ


সুব্রত ঘোষ । আমার পাশের গ্রামের মানুষ, কবিতা লেখেন । কবিতার একটি বইও আছে । ফেসবুকের টাইমলাইনে মাঝে মাঝে তার কবিতা ভাসে, কখনো পড়ি কখনো এড়িয়ে যাই । সবসময় কি আর কবিতা পড়া যায় ? যায়না । অন্তত আমি পারিনা । যাক আজ তার একটি কবিতা নিয়ে বসেছি, ভালবাসার স্থান থেকেই । কি আছে তার কবিতায় খুঁটিয়ে বের করবো । যথাসাধ্য । আলোচ্য কবিতাটির শিরোনাম গতানুগতিক ।

কবিতার শুরু এইভাবে
জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি
চারপাশে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির শালুক

জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া, খুব স্বাভাবিক কিছু না, আবার অত্যন্ত স্বাভাবিকও । স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক যাই হোক না কেন পুড়ে যাওয়া মানেই মারা যাওয়া, ধরে নিতে হয় মৃত্যুতেই কবিতার শুরু । কিন্তু যাচ্ছিতে শেষ নয়, যাচ্ছি যে যাচ্ছিই । অতএব পুড়ছেন অথচ মরছেন না । কবির কাছে মৃত্যু হয়তো শান্তির নয়, কিন্তু মৃত্যুতে যে অন্তত শেষ হওয়ার কথা সেই শেষটুকুও হচ্ছেনা । শেষ হচ্ছেনা বলেই দহন কষ্ট ডেকে আনছে হয়তো, আর এইভাবে কষ্ট পাচ্ছেন বলেই কলম তুলে নিয়েছেন কবিতা লেখার । অথচ বলছেন ছাই হয়ে যাচ্ছি, ছাই হওয়ার পরেও কি কিছু অবশিষ্ট থাকে ? ছাই শব্দটি হয়তো বেমানান অথবা কবিতাকে অন্য দিশা দেখাতেই এই শব্দটি বসানো দেখা যাক এরপর কি বলছেন চারপাশে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির শালুক প্রজাতি কথাটির মধ্য দিয়ে কবির সাথে কোথায় যেন বিজ্ঞানির মিল পাই, ভিন্ন ভিন্ন শালুককে তিনি প্রজাতি হিসেবে দেখছেন । প্রজাতি শব্দে জোর দিলে বোঝা যায় কবির অন্তর্বেদনা কি পরিমাণ গভীর । শুধু মানুষ নয়, জলে থাকা অর্থাৎ দহনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা অনেক কিছুই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, কবির ইশারায়, টিটকিরি করছে । এটাকে আমি কবির হীনমন্যতার পরিচায়ক হিসাবেই দেখি ।

দ্বিতীয় স্তবকে বলছেন,
একের পর এক সমুদ্র পেরিয়ে আসছি ক্রমশ
পেছনে পড়ে আছে হারগুড়
কুড়াতে গিয়ে দেখি তা আমারই পূর্বপুরুষের
সেকি ! এটা কি অন্য একটি কবিতা ? এইতো স্থলে ছিলেন, হুট করে সমুদ্রে কেন ? হতে পারে কিছুক্ষন হল কোনো সমুদ্র পেরিয়ে স্থলে এসে উঠেছেন । কিন্তু সমুদ্রের কাছেই কি পুকুর থাকে ? থাকেনাতো, তাহলে দীর্ঘ স্থল পথে সফর করছেন, আরেক সমুদ্রের উদ্দেশে । তাহলে বোঝা গেল পোড়াটা সাময়িক, সারা পথ জুড়ে শালুক থাকতে পারেনা, থাকতে পারেনা দাবানল । এত ক্ষনে স্পষ্ট হল কবি জীবনের কথা বলছেন । পাঠকের কাছে ব্যক্ত করছেন নিজের গতানুগতিক জীবন ঠিক কেমন ।
পেছনে পড়ে আছে হারগুড়
কুড়াতে গিয়ে দেখি তা আমারই পূর্বপুরুষের । কবিতা অন্য বাঁক নিল এবারে । সব সমুদ্র তিনি একা পার করছেন না, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই সমুদ্র পারাপার । সামান্য এটুকু বলতে দুই লাইন ব্যয় করলেন । অনুকবিতায় এটা অপচয় বলা চলে রীতিমত ।
অবশেষে বলছেন, আমি পুনরায় পুড়ে যেতে থাকি দিনরাত । এতক্ষনতো বেশ চলছিল, হঠাৎ দিন রাতের প্রশ্ন এল কেন ? তাহলে কি আমিটা আর কবি নন ? পরবর্তী প্রজন্মের কেউ জ্বলছেন ? কবির ভবিষ্যৎ বানি ? জৈব বিবর্ধন ? এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় । কিন্তু কবির দিক থেকে একটা গোঁজামিল রয়েই গেল যার উত্তর কবিই দিতে পারবেন ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ